ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি

আজকাল ধর্ষণ শব্দটির সাথে পরচিতি নয় এমন মানুষ পাওয়া যাবেনা। কিছুকাল আগেও বিষয়টাকে যতটা ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখা হতো, র্বতমানে সেটাকে ততোটাই স্বাভাবিকভাবে দেখা হচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশে এক নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে এটা।

যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে কেন হয় র্ধষণ, তবে অনেকে জোর গলায় বলবে দোষ মেয়ের ছিল। তারা বলবে, মেয়ের পোশাক শালীন ছিলোন, র্পদা করতো না, মেয়ে সন্ধ্যার পর বাইরে থাকতো ইত্যাদি। কিন্তু এটাই যদি কারণ হয়, তবে বছর পেরোয়নি এমন শিশুরাও কেন ধর্ষণের শিকার হয়? বোরখা পরা মেয়েরাও কেনো ধর্ষণের শিকার হয়? এখানে কেন ধর্ষকের বিকৃত চিন্তা-ভাবনার কথা একবারও আসে না?
গড়ে প্রতিদিন ১৩টা ধর্ষণ হয় বাংলাদেশে। একটি প্রতবিদেনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাস থেকে গত আট মাসে বাংলাদেশে ৮৯২টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে সিলেটের এমসি কলেজের একটি ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের কর্মীরা এক নারীকে দলগত ধর্ষণ করেছে। নারীটি ওই দিন তার স্বামীর সাথে কলেজ এলাকায় বেড়াতে যান এবং সেখানে ৬-৭ জন মিলে তাকে ছাত্রাবাসে টেনে নিয়ে যায়। তার স্বামীকে প্রচণ্ড মারে, এরপর তাকে ধর্ষণ করে। আজকাল ছোট্ট শিশু ধরে ধর্ষণও স্বাভাবকি ঘটনায় পরণিত হয়ছে। অশীতিপরায়ণ নারীও ধর্ষণের আওতার বাইরে নন। কতোটা বিকৃত চিন্তা ভাবনার অধকিারী হলে মানুষ এমন করতে পারে?

এমন অনেক ঘটনা অজ্ঞাত রয়ে যায়। অনেক ভিক্টিমের পরবিার লোকলজ্জার ভয়ে, প্রভাবশালী ধর্ষকের হুমকির কারণে ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে ফেলে, এগুলো তো সামনে আসে না। এদেশে ধর্ষকের শাস্তির জন্য কানুন থাকলওে তা বাস্তবায়িত হয় না। অনেকে বলবে, ভিক্টিম তো বেঁচে গেছে, এটাই অনেক বড়ো। কিন্তু ধর্ষিতার আত্মার মৃত্যুর খবর কে রাখে? তার আত্ম-সম্মানে দাগ লাগে তার খবর কে রাখে? ধর্ষিতার চরিত্রের দিকে আঙুল তুলে মানুষ কথা বলে। সমাজ তাদের মেনে নেয় না। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে নিজের হাতে নিজের জীবন শেষ করে। অনেকে হয়তো তার জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর স্মৃতিকে পিছে ফেলে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করে কিন্তু সমালোচনা তার পিছু ছাড়ে না। বিভীষিকাময় স্মৃতি আমৃত্যু তাড়া করে বেড়ায় তাদের।

আসলে ধর্ষণ কেন হয়? এটা বিচার-বিশ্লেষণ করার বিষয়। অশক্ষিতি থেকে উচ্চশিক্ষিতি সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্ষণ করছে। এটি একটি জঘন্য অপরাধ এবং এটা রোধ করতে ধর্ষককে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এর ফলে অপরাধপ্রবণ মানুষগুলোর মনে ভয়ের সৃষ্টি হবে। ধর্ষণের হার কমে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *