খেলোয়াড় তৈরির আতুরঘর- বিকেএসপি

দুই দশক আগেও হয়ত বাংলাদেশে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার কথা কেউ ভাবতেন না কিন্তু এখন ভাবে। আর বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতের উন্নতির পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান যে প্রতিষ্ঠানটির তার নাম – বিকেএসপি। ক্রিকেটে সাকিব-মুশফিক, ফুটবলে মামুনুল-এমিলি, শ্যুটিংয়ে আসিফ-শারমিন-এসব অ্যাথলেটদের কল্যাণে বিকেএসপির নাম এখন বাংলাদেশের অনেকেরই জানা। প্রতিবছর প্রায় ১০০ জন খেলোয়াড় তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করে অবদান রাখছেন বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে, হচ্ছেন তারা সম্মানিত আর বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল করছেন বাংলাদেশের নাম।

“বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান” বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষাকেন্দ্র যা সংক্ষেপে বিকেএসপি নামে পরিচিত। ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত বিকেএসপির প্রধান কেন্দ্র। প্রধান কেন্দ্র ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও দিনাজপুরে রয়েছে এর আঞ্চলিক কেন্দ্র। ১৯৭৪ সালে প্রস্তাবনা, ১৯৭৬ এ পরিকল্পনা পাশ আর ১৯৮৩ সালে “বাংলাদেশ ইনস্টিটিউড অব স্পোর্টস” থেকে নাম পাল্টে বিকেএসপি রাখা হয়। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৬ সালের ১৪ই এপ্রিল। কার্যক্রম শুরুর প্রায় ১০ বছর পর মেয়েরাও বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ পায়।

দীর্ঘমেয়াদি বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষিত খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ফুটবল ও হকি ডিসিপ্লিন দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বিকেএসপি। তবে শুরুর দিকটা খুব বেশি সাবলীল ছিল না।

বর্তমানে বিকেএসপিতে শিক্ষার্থীরা ১৭টি ইভেন্টে তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পায়। যার মধ্যে প্রধান কেন্দ্র সাভারে ১২টি আর বাকি কেন্দ্রগুলোতে ৫টি ইভেন্টে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, শ্যুটিং, আর্চারি, জুডো, উশু, তায়কোয়ান্দো, অ্যাথলেটিকস, বাস্কেটবল, সাঁতার, জিমন্যাস্টিকস, বক্সিং, টেনিস, ভলিবল, কারাতে ও টেবিল টেনিস এই মোট ১৭টি ইভেন্টে শিক্ষার্থীদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে।

বিকেএসপি শুধু খেলোয়াড় তৈরির কারখানা হিসেবে পরিচিতি পেলেও এর ব্যাপ্তি এখন অনেক বড়। কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে বেড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র-ছাত্রীরা সামরিক বাহিনীতেও তাদের যোগ্যতার ছাপ রাখছেন। একজন শিক্ষার্থীকে পরিশ্রমী, সৎ, নিষ্ঠাবান হিসেবে গড়ে তুলতে বিকেএসপির ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার্থীদেরকে আরো আধুনিক ও সময়োপযোগী হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *