আবার দেখা হবে, হে প্রিয় জাহাঙ্গীরনগর

কেমন আছো তুমি? আজ দিয়ে ৪১৫ দিন হলো তোমাকে ছেড়ে আসার। আমার বেশ মনে আছে যেদিন তোমায় ছেড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছিলাম সেই সন্ধ্যাটি। পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে সেজেছিলে বর্ণিল আলোকসজ্জায়। রিক্সায় করে যখন হল থেকে ডেইরি গেটের দিকে যাচ্ছিলাম তোমায় দেখে একটা অন্যরকম মায়া অনুভব করছিলাম। মনে হচ্ছিলো আমাদের সবার এভাবে চলে আসা তোমার ভালো লাগছেনা। কতোবারই তো বাসায় আসলাম সেই একই পথ দিয়ে, কিন্তু কখনোই এই অনুভুতিটা আসেনি কেন? বলতে পারো?

মরিচবাতির জমকালো আলোয় উচ্ছ্বাসের পরিবর্তে করুণ লাগছিলো তোমাকে। যেন ইচ্ছার বিরুদ্ধেই জোর করে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তোমার ওপর এই শ্যূণ্যতাটি, আর তুমি নিরূপায়। করুণ চোখেই বিদায় দিতে হচ্ছিলো আমাদের। কিন্তু কে জানতো এতো দীর্ঘ হতে যাচ্ছে এ বিচ্ছেদ! দিন ঠিকই কেটে যাচ্ছে কিন্তু সময় যেন কাটছেইনা। সময় যেন সেই স্মৃতিতেই আটকে আছে, সেই লাল ইটগুলোর সাথে। কতো সময় কেটেছে লাল দেয়ালের ভিতরে। এই আচ্ছা আমাকে তোমার মনে আছে তো?

তুমিও ভালো নেই নিশ্চয়ই । ভালো থাকবে কি করে, তোমার সকল সুখ, দুঃখ তো জড়িয়ে আছে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের সাথে। আর তাদের জীবন তো আটকে আছে ঘরের চার দেয়ালের ভিতরে। ক্যাম্পাসটাও পড়ে আছে শূণ্য। টিএসসি এখন আর আগের মতো জমজমাট থাকেনা, মুক্তমঞ্চটাও ফাঁকা পড়ে থাকে। কতোদিন কোনো অনুষ্ঠান হয়না সেখানে। রাতের বেলায় প্রাণ খুলে খালি গলায় গানও শোনা যায়না। ট্রান্সপোর্টটাও এখন আর চায়ের আড্ডায় মুখরিত হয়না। এই শূণ্যতা কীভাবে ভালো রাখবে তোমায়। যে জাহাঙ্গীরনগর সংস্কৃতির রাজধানী বলে খ্যাত, সেখানে সাংস্কৃতিক চর্চা হয়না কতোদিন। জলসিঁড়ি, রিদম, ধ্বনি, জুডো, থিয়েটারগুলোর জমজমাট অনুষ্ঠানে মুখরিত হয়না মুক্তমঞ্চ। এ শূন্যতা নিশ্চয়ই তোমারও ভালো লাগছেনা। কিন্তু প্রকৃতির কাছে আমরা আজ অসহায়।

আজ পৃথিবী অসুস্থ কিন্তু একদিন দেখো ঠিক সুস্থ হয়ে উঠবে সে। তখন আবার তোমার সন্তানেরা তোমার কাছে ফিরে আসবে। আমিও ফিরে আসবো। আবার কোনো সকালে দেখা হবে আমাদের। সময়টা হয়তো শীতের সকাল হবে, হয়তো কোনো গ্রীষ্মের, শরৎ বা হেমন্তেরও হতে পারে। অন্য সকালের মতো সেদিনও সূর্যের মিষ্টি আলো ফুটবে, পাখিরা ডাকবে কিচিরমিচির। হয়তো কুয়াশা থাকবে চারপাশে, শিশির বিন্দু জমে থাকবে ঘাসে, ফুলে, পাতায়। আশা করি সেই সকাল দ্রুতই আসুক। শীঘ্রই যেন তোমার কাছে ফিরে যেতে পারি। ভালো থেকো প্রিয়।

ইতি
তোমার শিক্ষার্থী


জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টডিজ
৪৮ তম আবর্তন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *