সৌদি আরবে কুলসুমের মৃত্যুর দায় কার!

কুলসুম দেশে ফিরেছে। ১৪ বছরের কিশোরী, পাসপোর্টে বয়স করা হলো ২৫। এরপর দিনবদলের আশায় ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে যাত্রা, সৌদি আরবের উদ্দ্যেশ্যে। ২০২০ সালের ১১ আগস্ট দেশে ফিরে আসেন মৃত্যুর কাছে পরাজিত হয়ে। কিশোরীর মৃত্যুর কারণ প্রথমে গৃহকর্তা এবং তার ছেলে মেরে তার দুই হাঁটু, কোমর ও পা ভেঙ্গে দেয়। এর কিছুদিন পর তার একটি চোখ নষ্ট করে ফেলে দেয় রাস্তায়। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পরে চিকিৎসারত অবস্থায় ৯ আগস্ট ২০২০, মৃত্যুর কাছে হেরে যায় কুলসুম।

২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র সৌদি আরবেই নারী গৃহকর্মী পাঠানো হয়েছে সাড়ে তিন লাখের বেশি যা সর্বমোট সংখ্যার ৩৮.২০% (সূত্রঃ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি))। অথচ এই বিপুল পরিমাণ জনশক্তি পাঠানোর পরে পুরো প্রক্রিয়াটি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সৌদি সরকার। এরফলে অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষার জন্য বেশ কিছু লিখিত আইন থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না বিএমটি বা বিভিন্ন সংস্থা যারা কাজ করছেন। ফলশ্রুতিতে বেড়ে চলেছে কুলসুমদের সংখ্যা।

২০১৬ থেকে ২০১৯ র্পযন্ত চার বছরে বিভিন্ন দেশ কাজ করতে যাওয়া ৪১০ জন নারী লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৩ জন।

সৌদি ছাড়া র্জডান, লেবানন, ওমান, দুবাই এবং কুয়েতে মারা গেছেন মোট ১৯৭ জন, অন্যান্য দেশ থেকে এসেছে আরো ৬০ জন। এই ৪১০ জনের মধ্যে ৬৭ জন আত্মহত্যা করেছেন। শুধু সৌদি আরবেই আত্মহত্যা করেছেন ৩৯ জন।

শারীরিক, মানসিক, যৌন অত্যাচার, ধর্ষণসহ নানা কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দেশে ফিরছেন নারী কর্মীরা। সেফ হাউজে বাড়ছে দেশে ফিরতে চাওয়া নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের সংখ্যা।

বিভিন্ন অভিযোগের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নারী শ্রমিক পাঠানো স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু মৃত শ্রমিকের তালিকা ১৫৩ হলেও ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গৃহ খাতে নারী শ্রমিক নেয়ার জন্য সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের যে চুক্তি হয়েছিল সেক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সাড়ে তিন লাখের মাঝে দেশে ফিরেছেন আট-নয় হাজার নারী শ্রমিক। বাকিরা কেমন আছেন তা জানার কোনো উপায় নেই। মৃতের সংখ্যা যখন শতাধিক তখনও যদি আমাদের কোন পদক্ষেপ না নেয়ার থাকে তাহলে কবে আসবে এই আত্যাচারিত নিপিড়ীত শ্রমিকদের সুদিন। কবে সত্যি দিন বদলাবে হত দরিদ্র পরিবারগুলোর?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *