আপনি এখানে
প্রচ্ছদ > আলোড়ন > রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

রাশিয়া প্রতিনিধি, প্রাচ্যনিউজ


বাংলার আকাশ-বাতাস ছাড়িয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জতাতিক মাতৃভাষা দিবস পৌঁছে গেছে বিশ্বের আনাচে কানাচে। বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়াও তার ব্যতিক্রম নয়। ২০১৮ সালের মহান ভাষা শহীদদের গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করা হয় ২১ শে ফেব্রুয়ারী। পরদিন ভাষা শহীদদের স্মরণ করে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র সংগঠন (রুদেন ইউনিভার্সিটি) এর উদ্যোগে মস্কোর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দেশী ও বিদেশী ছাত্র ছাত্রীদের অংশগ্রহণে ২২শে ফেব্রুয়ারি একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংগ্রামকে তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও বাঙালির বেশে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। রাশিয়ার বাংলাদেশী প্রবাসীদের মধ্যে এ নিয়ে গৌরবের শেষ নেই। নিজের ভাষা ও ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পেরে আয়োজকরা অত্যন্ত গৌরবান্বিত হন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ছাত্র সংগঠনের সভাপতি জনাব সাইফুল আলম।

রুদেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এরমাকোব আলেকজান্ডার বিতালিবিচ। তিনি  বাংলা ভাষার ইতিহাস ও ২১ ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে শেষে তিনি ও উপস্থিত বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। এ সময় ভায়োলীনের করুন শুরে বেজে ওঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গান। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং এর পরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ, ধ্রুপদী নৃত্য, গান ও কবিতা আবৃত্তি দিয়ে সাজানো অনুষ্ঠানটি উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি রাশিয়া, ভারত, নেপাল ও ইকয়োডরের ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলা গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে। সবশেষে শিল্পীদের আপ‍্যায়ন সেইসাথে সার্বিক সহযোগিতার জন্য আল আমিন ট্রাবল, অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণকারী সকল শিল্পী ও উপস্থিত দর্শকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষাকে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি সাইফুল আলম। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ বাংলাদেশী হয়ে আমরা গর্বিত এ কারণে যে, বিশ্বের সকল জাতি আমাদের সংগ্রামের দিনটিকে উদযাপন করে। রাশিয়ার বুকে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পেরে আমরা অত্যন্ত গৌরববোধ করছি। আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জাতীয় দিবস রাশিয়ায় পালন করবো।
অনুষ্ঠানের কিছু খণ্ডচিত্র



মন্তব্য করুন

উপরে