আপনি এখানে
প্রচ্ছদ > নির্বাচিত > জাবি ছাত্রলীগের ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন করার অনন্য কর্মসূচি

জাবি ছাত্রলীগের ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন করার অনন্য কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রাচ্যনিউজ:


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন রাখার এক অনন্য কর্মসূচি পালন করেছে। ১৮ অক্টোবর বুধবার সকাল পেীনে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে এই কর্মসূচির শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ‘আমাদের ক্যাম্পাস, আমরাই পরিচ্ছন্ন রাখবো’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েক শ নেতাকর্মী অংশ নেন।

২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় এ বছর ৩ লক্ষের অধিক পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এ বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী, তাদের অভিভাবকগণ, দোকানপাট, পরিবহন, ব্যানার, পোস্টার, প্যাকেট সব মিলিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ স্নিগ্ধ পরিবেশ বেশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সে কারণে জাবি শাখা ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন করার এই গঠনমূলক কাজের উদ্যোগ নেয় বলে নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়।

বুধবার সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম পরিচ্ছন্নতা কাজের সূচনা করতে নিজেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ঝাড়ু দিয়ে এই কাজের সূচনা করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ভর্তি পরীক্ষার কারণে ক্যাম্পাসে আবর্জনা, জঞ্জাল জমেছিল। ময়লা দূর করতে এ সবুজ ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ছাত্রলীগ যে উদ্যোগ নিয়েছে তা দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত। উপাচার্য এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য আহবান জানান।

সরেজমিন বেলা সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রাবাস আল-বেরুনীর সামনে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে ব্যানার, পোস্টার নামাতে দেখা যায়। তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস সুস্থ, সুন্দর মানসিকতার জন্ম দেয়।

ক্যাম্পাসের মীর মশাররফ হোসেন হল থেকে বটতলা, মুক্তমঞ্চ, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, প্রশাসনিক ভবন, নতুন কলা ভবন, সমাজবিজ্ঞান ভবন, টারজান পয়েন্ট, চেীরঙ্গী, পরিবহন চত্ত্বরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পরিচ্ছন্ন করার কাজে নিয়োজিত দেখা যায়। এসময় অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীও স্বেচ্ছায় ছাত্রলীগের পাশে এসে কাজ করেন।
সাবেক শিক্ষার্থী সুশান্ত হালদার বলেন, ছাত্রলীগের এই কাজটি সুন্দর এবং শিক্ষার্থীদের কাছে এটি একটি শিক্ষণীয় কর্মসূচি। ছাত্রলীগ যে কাজটি করেছে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসের করতে এরকম গঠনমূলক কাজে পরিবেশ রক্ষায় অন্যান্য সংগঠনও এগিয়ে আসবে বলে আশা করি। শহিদুল ইসলাম নামের একজন শিক্ষার্থী ফেসবুক মন্তব্যে লেখেন, ছাত্রলীগ এরকম ইতিবাচক কাজগুলোই করুক সবাই এরকমই চাই। কাজ করার জায়গা বেশি ছাত্রলীগের। ইতিবাচক কাজের পাল্লা বাড়ুক আর নেতিবাচক কাজ কমতে কমতে শূন্যের ঘরে চলে যাক।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ তার ফেসবুক টাইমলাইনে লেখেন, এই ছেলে-মেয়েগুলো ছাত্রলীগ করে। ছাত্রলীগ শুনলেই মনে হয় শুধু ক্ষমতা আর ক্ষমতা। কিন্তু দেখেন কত সহজে ময়লা আবর্জনা সাফ করা শুরু করেছে এরা। দেশ যে বদলে যাচ্ছে, এর প্রমাণ এই ছেলেমেয়েগুলো।শেখ রাসেলের জন্মদিনে এর চেয়ে ভালো কর্মসূচি আর কেউ পালন করছে বলে আমার জানা নেই। জাবি ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ। সবাই তোমাদের অনুসরণ করুক।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস করার পাশাপাশি মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবেও গড়ে তুলতে চাই। কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় সে কারণে আমরা কতগুলো ইউনিটে বিভক্ত করি পুরো ক্যাম্পাসকে। সকল নেতাকর্মীকে ধন্যবাদ প্রাণবন্তভাবে কাজ করার জন্য। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে দেশ ও জাতির জন্য যেকোন কাজে ছাত্রলীগ ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত থাকে।

জাবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, জাবির নিরাপত্তা, সুনাম ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা সদা বদ্ধপরিকর। এছাড়া এই ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সর্বদা সচেষ্ট রয়েছি। যেকোন সময় দেশের জন্য ছাত্রলীগের সকল নেকাকর্মীই কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

উপরে