আপনি এখানে
প্রচ্ছদ > বিদ্যাপীঠ > জাবির হল অফিসে তালা, নেপথ্যে এক অছাত্র

জাবির হল অফিসে তালা, নেপথ্যে এক অছাত্র


রাইয়ান বিন আমিন, জাবি প্রতিনিধি:


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগে সুপারিশ না করায় হলে অবৈধভাবে অবস্থানকারী একজন অছাত্রের ইন্ধনে আল বেরুনী হলের বর্ধিতাংশের কার্যালয়ে তালা মারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে যারা তালা মেরেছে তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও রাস্তা সংস্কার, আসবাব সংকট নিরসন, সাপ-উইপোকা-ছারপোকা দমনসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলের (সম্প্রসারিত ভবন) অফিস কক্ষে তালা মারা হয়েছে। কিন্তু প্রাচ্যনিউজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর আড়ালে রয়েছে হলের মেস স্টুয়ার্ড পদে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে প্রভোস্টের সুপারিশ না করা। ক্ষুব্ধ হয়ে আল বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশের ছাত্রলীগের একাংশ এমন কাজ করেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে হলটির অফিস কক্ষে তালা ঝোলানোর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হল শাখা ছাত্রলীগের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তালা ঝুলছিল। এতে হলটির প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে আল-বেরুনী হলের (সম্প্রসারিত ভবন) মেস স্টুয়ার্ড পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক এ কে এম জসীম উদ্দীনকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন হলটির ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। কিন্তু গতকাল সোমবার মো. আরিফ মাহমুদ নামের হলের এক কর্মচারীকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি একই পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ইন্ধনে হলের অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় কিছু শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-গণযোগাযোগ বিষয়ক মো. সাদ্দাম হোসেনের (দর্শন- ৩৯ তম আবর্তন) নেতৃত্বে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান প্রধান (প্রত্নতত্ত্ব- ৪১ তম আবর্তন), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রচি (ভূগোল ও পরিবেশ- ৪১ তম আবর্তন), সাংগঠনিক সম্পাদক শেফাউল ইসলাম (নৃবিজ্ঞান- ৪১ তম আবর্তন) এবং আরিফুল আলম (আইআইটি- ৪২ তম আবর্তন) এ ইন্ধন যুগিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৪২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আরিফুলকে এ ঘটনায় অগ্রগামী দেখা গেছে। জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাবেক উপ-গণযোগাযোগ বিষয়ক মো. সাদ্দাম হোসেন প্রাচ্যনিউজকে বলেন, ‘এ হলের শিক্ষার্থীরা তাদের আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন যাবৎ তারা তাদের অসুবিধার কথা জানিয়েও আসলেও কতৃপক্ষ উদাসীন ছিল। এজন্যই হলের শিক্ষার্থীরা তাদের দাবী পূরণের জন্য তালা দিয়েছে।’
এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯ তম আবর্তনের একাডেমিক বর্ষ শেষ হয়ে যাওয়ায় সাদ্দামের আর ছাত্রত্ব নেই বলে হল প্রশাসন সূত্র থেকে জানা গেছে। আবাসিক হলে একজন অছাত্র থেকে ক্ষমতার দাপট দেখানোটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ভাল ভাবে নিচ্ছেনা বলে জানা গেছে।

আল বেরুনী হলের প্রভোস্ট এ কে এম জসীম উদ্দীন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে প্রাচ্যনিউজকে বলেন, ‘নিয়োগ দেওয়া না দেওয়া সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এখানে আমার কোন কিছু নেই। আর আমি তো কাউকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে দিতে পারি না। বিষয়টি উপাচার্য মহোদয়কে জানিয়েছি, বাকিটা তিনি দেখবেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা প্রাচ্যনিউজকে বলেন, ‘আমি শুনেছি হলে তালা লাগিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের কোন ইন্ধন ছিল বলে আমার জানা নেই।’

একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, অছাত্র কারো ইন্ধনে হল অফিসে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে সে বিষয়ে হল প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর প্রশাসন এ বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

মন্তব্য করুন

উপরে