আপনি এখানে
প্রচ্ছদ > আলোড়ন > জাবিতে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালিত

জাবিতে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালিত

প্রাচ্যনিউজ প্রতিনিধি:


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারী বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ‘ভালবাসার ফুল দিও শহীদেরও চরণে’ শ্লোগানকে ধারন করে ১৯৮৩ সালে তৎকালীন স্বৈরশাক এরশাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে নিহত শহীদদের স্মৃতিকে স্মরণ করা হয়।
বিকাল পাঁচটায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালনের গুরুত্ব ও শহীদ জয়নাল, দিপালী, জাফর, কাঞ্চন, আইয়ুবদের সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করা হয়। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় প্রতিরোধের বাণী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড, ফারজানা ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক গীতিআর নাসরিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মঞ্জুরুল, কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, সহযোগী অধ্যাপক মাসরুর শহীদ হোসেন, অধ্যাপক নাসিক আখতার হোসাইন, শিক্ষক স্বাধীন সেন, ফিরোজ উল ইসলাম, শেখ আদনান ফাহাদ প্রমুখ। গণসংগীত পরিবেশন করে উদীচী শিল্পি গোষ্ঠী ও ভাটিয়ান নামক সংগীত দল। সংগীতের মাঝে মাঝে বক্তারা ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারীর উজ্জ্বল সংগ্রামী দিনের স্মৃতিচারণ করেন। সেই সাথে কেন এই দিবস পালন করা জরুরি সেই বিষয়েও তারা যুক্তি তুলে ধরেন। বক্তারা ভ্যালেনটাইন সংস্কৃতির আগ্রাসনে নিজেদের সংগ্রাম ও প্রতিরোধকে হারিয়ে যেতে না দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, চমৎকার এই আয়োজন আমাদের অতীত ইতিহাস চর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা অধ্যাপক গীতিআরা বলেন, গণমাধ্যম আজ ভালবাসা দিবস দিবস করছে, তবে সাধারণের মধ্যে সেই রকম সাড়া নেই। প্রান্তিক মানুষের কাছে এই ভালবাসা দিবস কোন গুরুত্ব বহন করে কি না তা নিয়ে কথা হতে পারে। স্বৈরাচার প্রতিরোধে আজকের দিনটিকে এইভাবে তরুণরা মনে রেখেছে যা আমাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করে। তিনি বলেন, বিরাজনীতিকরণের মা্ধ্যমে প্রজন্মকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস ভুলিয়ে রাখার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস যেন প্রজন্মের কাছ থেকে কেউ দূরে সরিয়ে না রাখতে পারে। তিনি বলেন, স্বৈরাচার প্রতিরোধের প্রথম আন্দোলনটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হয়। সে কারণে এ বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরণের আয়োজন হওয়া উচিত।

জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে, ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে যে ১৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩ সালের রক্তাক্ত প্রতিরোধ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই দিবসটি আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন অধ্যাপক মোজাম্মেল এসময় স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে তাদের তারুণ্যের স্মৃতিচারণ করেন।

অনুষ্ঠান মঞ্চের পিছনের ব্যানার করেন তুষার ধর (নাটক ও নাট্যতত্ব, ৪৫) ও সিক্ত (চারুকলা ৪৫)

দিবসটি পালনে হওয়া এই অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ইমরান নাদিম ও তার সহযোদ্ধারা। এতে অর্থায়্ন করেন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের ইন্টারমিডিয়েট ২০০০ সালের কিছু শিক্ষার্থী। এর মধ্যে মশিউর রহমান, সুমন সাজ্জাদ, নজরুল ইসলাম এসেছিলেন জাহাঙ্গীরনগরে। অন্যান্যদের মধ্যে সাগর, হিমেল, দিপু, সুমন (লন্ডন ফেরত ), জামিল, রাজ্জাক, রুপালী, টিটু, শাহিন কাদির সকলেই এই অনুষ্ঠানের পেছনে সহযোগিতা করেছেন।

স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসটি আয়োজনের ব্যাপারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক শেখ আদনান ফাহাদ বলেন, ‘ আমাদের সকলের উচিত প্রতিবছর স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালন করা। সেদিন ১৪ ফেব্রুয়ারী আমাদের সমৃদ্ধির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য জয়নাল, কাঞ্চন ওরা তাঁদের জীবন বিসর্জন করেছিল। দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা উচিত।

মন্তব্য করুন

উপরে