আপনি এখানে
প্রচ্ছদ > আলোড়ন > জাবিতে জালিয়াতি নিয়ে সংশয়, ভর্তি হলো অভিযুক্ত শিক্ষার্থী !

জাবিতে জালিয়াতি নিয়ে সংশয়, ভর্তি হলো অভিযুক্ত শিক্ষার্থী !

রাইয়ান বিন আমিন, প্রাচ্যনিউজ ডটকম


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গ ইউনিট’ কলা ও মানবিক অনুষদের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ স্নাতক সম্মান ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি অভিযোগ প্রমানিত হওয়া সত্ত্বেও  এক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। গত ২১ শে ডিসেম্বর সেই শিক্ষার্থী ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ডীন অফিসে বিভাগীয় সভাপতি ও অনুষদ ডীন ভর্তির সকল বন্দোবস্ত সম্পন্ন করেন।

বলছি শেরপুর জেলার নকলা পৌরসভার মেয়র ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা হফিজুুর রহমান লিটনের ছেলে নাফি ইবনে হাফিজের কথা। রোল নং- ৩৪০৯৮। নটরডেম কলেজ, ময়মনসিংহ শাখা থেকে মানবিক বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে এই শিক্ষার্থী ‘সি ইউনিট’ কলা ও মানবিক অনুষদে ৪৪ তম হয়ে গত ২১ শে ডিসেম্বর ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। এই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক প্রভাবশালী নেতা সবকিছু দেখভাল করেছেন বলে জানান তিনি।

২৮ নভেম্বর রাত নয়টা। এই প্রতিবেদকের হাতে একটি তথ্য আসে যে, নাফি জালিয়াতি চক্রের সাহায্যে জাবির ‘সি ইউটিটে’ ৪৪তম হয়েছে। সেই তথ্যকে ভিত্তি করে অনুসন্ধানে নামে এই প্রতিবেদক । এরপর ৩ ডিসেম্বর পরিচয় গোপন রেখে জালিয়াতি চক্রের একজন সদস্য হিসেবে নাফিকে ফোন করে কৌশলে জানতে চাইলে সে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তির কথা স্বীকার করে এবং তার পরিবার জড়িত আছে বলে জানায়। টাকার কথা জানতে চাইলে সে বলে, “আমি যতটুক জানি পুরো টাকা দেওয়া হয়ে গেছে।” কত দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে বলে, “আমার ছোট কাকা দেখছে বিষয়টা, আমি সঠিক বলতে পারতেছিনা।”  আর তার কাগজপত্র (সার্টিফিকেট) ভাইদের কাছে আটক (নিরাপত্তা হিসেবে) আছে বলে জানায়। পরদিন তা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে সে।

চান্স পাওয়ার মাধ্যম জানতে চাইলে বলে, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনি আমার কাকার সাথে কথা বলেন।” তারপর বিস্তারিত জানার জন্য তার কাকার মোবাইল নম্বর চাইলে সে কিছুটা অবাক হয়ে বলে “আপনি আমার কাকাকে চিনেন না! (শাখা ছাত্রলীগের এক প্রভাবশালী নেতার নাম বলে) সে আমার ছোট কাকার ক্লোজ ফ্রেন্ড। আপনি তার সাথে কথা বলেন। সেই সবকিছু জানে।”

৬ ডিসেম্বর সকালে তাকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফোন দিলে সে সবকিছু অস্বীকার করে বলে, “আপনার কাছে যদি কোন তথ্য থাকে তাহলে প্রমান করে দেখান।”

এদিকে দুপুরে আবারও ফোন করলে সে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হুমকি দিয়ে বলে ‘আপনি সাংবাদিক হন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হন। আপনি কোন থানায় যাবেন, আশুলিয়া না সাভার? ঠিক করেন। আমি ক্যাম্পাসে আসতেছি, ভর্তি হয়ে দেখাব।’

বিষয়টি ইতিহাস বিভাগ ও ডীন অফিসকে জানিয়ে রাখলে তারা সহযোগীতার আশ্বাস দেয়। গত ২০ ডিসেম্বর নাফি ভর্তি হতে এলে পূর্বোক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অন্যান্যদের মতো যাচাই- বাছাই করা হলে হাতের লেখা ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোন অসঙ্গতি পাওয়া যায় না।

পরে তার সাথে বলা কথাপোথনের ফোন রেকর্ড উপস্থিত শিক্ষক কলা ও মানবিকি অনুষদের ডিন ড. মো. মোজাম্মেল হক, ইতিহাস বিভাগের সভাপতি ড. এ টি এম আতিকুর রহমান ও চারুকলা বিভাগের সভাপতি এম. এম. ময়েজউদ্দিন কে শোনানো হলে তারা জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং তার ভিত্তিতে তারা এবং উপস্থিত সাংবাদিকরা নাফিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

কিন্তু সবকিছু অস্বীকার করে সে বলে ফোনের কথা নাকি সে বুঝতে পারে নাই। তাই ওইরকম ভাবে উত্তর দিয়েছে।’ তার এই উত্তর মনোঃপুত না হলে সাংবাদিকদের চাপে আবারও চ্যালেঞ্জ করে শিক্ষকরা বলেন, ‘তোমার কথাপোকথনেই তো বুঝা গেছে যে তুমি একটা চক্রের সাথে জড়িত আছো।’ এবং জালিয়াতির মাধ্যম জানতে চান। কিন্তু  নাফিও নাছোড়বান্দা। সে তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

এরপরই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। উপস্থিত শিক্ষকরা সেই কথাপোকথনকে ‘একটা ভুল বোঝাবুঝি’ এবং চক্রের সাথে সংশ্লিষ্টতাকে ‘একটি পরিস্থিতির শিকার’ উল্লেখ করেন। একটা পর্যায়ে ইতিহাস বিভাগের সভাপতি এ টি এম আতিকুর রহমান এবং অনুষদ ডীন ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, যেহেতু সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে এবং নিজের পরীক্ষা নিজেই দিয়েছে তাই নিয়ম অনুযায়ী তার ভর্তি হতে বাঁধা নেই। এই বলে বিভাগীয় সভাপতি তার ভর্তি ফরর্মে স্বাক্ষর করে দেন এবং পরদিন এসে ভর্তি হতে বলেন ।

এ বিষয়ে আতিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাফির কথাপোকথনে বুঝা গেছে  সে একটি চক্রের সাথে জড়িত আছে। তবে তার সাথে কথা বলে মনে হয়েছে সে হয়তবা পরিস্থিতির শিকার। আর পরীক্ষায় যেহেতু কোন অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি তাই নিয়ম অনুযায়ী আমরা তার ভর্তি নিয়েছি। এখন কোন প্রকার অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে।

(অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সাথে কথপোকথনের সকল দলিল এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।)

One thought on “জাবিতে জালিয়াতি নিয়ে সংশয়, ভর্তি হলো অভিযুক্ত শিক্ষার্থী !

মন্তব্য করুন

উপরে