আপনি এখানে
প্রচ্ছদ > আলোড়ন > জাবিতে খেলোয়াড় ও দর্শকদের উপর আক্রমণ, হামলাকারীদের শাস্তি দাবি

জাবিতে খেলোয়াড় ও দর্শকদের উপর আক্রমণ, হামলাকারীদের শাস্তি দাবি

প্রাচ্যনিউজ প্রতিনিধি:


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চ্যান্সেলর কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় আল বেরুনী হলের অধিনায়ক ও অন্যান্য খেলোয়াড়ের উপর  আক্রমণ চালিয়েছে মীর মশাররফ হোসেন হলের কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দুই হলের মধ্যে চলমান ফুটবল খেলার মধ্যে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এর ফলে আল বেরুনী হলের একাধিক খেলোয়াড়সহ ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত আল বেরুনী হলের জনিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে আল বেরুনী হলের শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রক্টর বরাবর অভিযোগপত্র দিয়েছে। প্রক্টর ঘটনার সাথে দায়িদের ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, ৬ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে আল বেরুনী ও মীর মশাররফ হোসেন হলের মধ্যে চ্যান্সেলর কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলার একেবারে শেষ মুহূর্তে একটি ‘ফাউল’ কে কেন্দ্র করে মীর মশাররফ হোসেন হলের অধিনায়ক সালমান (৪২) ও আল বেরুনী হলের অধিনায়ক জনি লাঙবাঙয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। আল বেরুনী হলের শিক্ষার্থীদের দেয়া স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, জনিকে বুট দিয়ে মাথায় আঘাত করে সালমান যা জনি প্রতিহত করতে যায়। এমন সময় মীর মশাররফ হোসেন হলের অন্তর জনির বুকে ও মাথায় উপর্যুপরী আঘাত করে। এতে জনির শরীর ফেটে রক্ত বের হয়। এরপর হামলাকারী সালমান ও অন্তরের সাথে মীর মশাররফ হোসেন হলের অন্যান্য খেলোয়াড় ও উচ্ছৃঙ্খল দর্শকরা যোগ দেয়। তারা মাঠের মধ্যে আল বেরুনী হলের খেলোয়াড়দের এবং বাইরে আল বেরুনী হলের দর্শকদের মারধর করে। আল বেরুনী হলের জনি লাঙবাঙ, মামুন, বিপুল, রাজিবুল, অনুস্বত্ত্ব, রাজ্কাক, জামশেদ, চুকুসহ ১০-১৫ জন আহত হন। মামুনের কানের নিচ দিয়ে রক্তপাত হয়, চুকুর মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা জানান।

এর মধ্যে জনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। কর্তব্যরত একজন ডাক্তার প্রাচ্যনিউজকে জানিয়েছেন, জনির উপর যে আক্রমণ হয়েছে তা বেশ গুরুতর। কয়েকটি টেস্ট করে দেখতে হবে মাথা বা বুকে বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়েছে কি না! এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক শামছুল আলম লিটন বলেন, জনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে আমরা এনাম মেডিকেলে পাঠিয়েছি। তার রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

এদিকে এ ঘটনা আল বেরুনী হলে পৌঁছালে হলে থাকা কয়েক শ শিক্ষার্থী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা উত্তেজিত হয়ে পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবন পর্যন্ত পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল তাদের সঙ্গে কথা বলে ফিরিয়ে আনেন। পরে শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রক্টর বরাবর অভিযোগপত্র দেয়। এ সময় জুয়েল ও চঞ্চলও অভিযুক্তদের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রক্টর অফিসে দেওয়া, অভিযোগপত্রে আল বেরুনী হলের খেলোয়াড় ও দর্শকদের উপর আক্রমণকারীদের তালিকা যুক্ত করা হয়। মারধরকারীদের মধ্যে যাদের নাম রয়েছে তারা হলো: সালমান (ইতিহাস, ৪২), অন্তর (নৃবিজ্ঞান, ৪৩), শাহাদাৎ লিটন (৪৫), রাজু (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ৪৫), প্রিতম আরিফ (ইতিহাস, ৪৩), রাফসান (ইংরেজি, ৪৩), ফয়সাল (সরকার ও রাজনীতি ৪৪)। এছাড়া সুপল, সাগর, মুরাদ, মাসুম, গোবিন্দ, শুভ, রবিউল, গুলজার তাহের প্রমুখকে মারধরকারী হিসেবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগপত্রে খেলোয়াড়ের গায়ে যারা হাত তুলেছে তাদের মধ্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মীর মশাররফ হোসেন হলের হয়ে যারা খেলতে নামে তাদের নাম দেখা যায়।

আল বেরুনী হলের শিক্ষার্থী ও আহত ফুটবলার বিপুল বলেন, আমরা হতবাক মীর মশাররফ হোসেন হলের হামলাকারীদের আচরণে! মাঠের মধ্যে এই জাতীয় আচরণ কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ছাত্ররা করে?

মাঠে উপস্থিত আল বেরুনী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু সাদাত সায়েম বলেন, খেলাধুলা হচ্ছে সুস্থ বিনোদন। এই সুস্থ বিনোদনকে ঘিরে যদি মারামারি আর বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় তাহলে খেলাধুলা দেখার জন্য মানুষ মাঠমুখী হবেনা। এ ধরনের হীন কর্মকান্ড থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারিরীক শিক্ষা বিভাগের জনৈক রেফারির কাছে জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এভাবে খেলোয়াড়দের গায়ে হাত তোলা খুবই অন্যায় কর্ম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন বা খেলার মাঠের আইন যাই বলেন সেটিতেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ এটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা এ ব্যাপারে বলেন, আমরা আল বেরুনী হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগপত্র পেয়েছি। তারা যে পাল্টা মারধর বা এ জাতীয় কিছু না করে আমাদের কাছে অভিযোগপত্র দিয়েছে সেটি প্রশংসনীয় কাজ। আমরা তদন্ত শেষ করে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মন্তব্য করুন

উপরে