আপনি এখানে
প্রচ্ছদ > মধ্যপ্রাচ্য > গণভোটেই হলো এক দেশ, এক জাতি, এক নেতার তুরস্ক

গণভোটেই হলো এক দেশ, এক জাতি, এক নেতার তুরস্ক


প্রাচ্যনিউজ ডেস্ক:


তুরস্কের শাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জন্য গতকাল ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ানের দল জাস্টি এন্ড একে পার্টি জয় লাভ করেছে। তুরস্কের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা আনাদলু এজেন্সি জানিয়েছে, তুরস্কের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য প্রেসিডেন্টকে আরো বেশি ক্ষমতা দিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে।

আনাদলু এজেন্সিতে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, বেসরকারীভাবে ঘোষিত ফলাফলে ৫১.৩২% ভোট পেয়ে ‘হ্যাঁ’ জয় লাভ করেছে। ‘না’ পেয়েছে ৪৮.৬৮% ভোট। মোট ভোট গণনা হয়েছে ৯৭.৯২%। এদিকে এ বিজয়ের পর তুরস্কের রাজধানী আংকারাসহ বিভিন্ন শহরে এরদোয়ানের ভক্তরা উল্লাস করতে নেমে আসে। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালী ইলদিরিম একে পার্টির কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এ বিজয় তুর্কি জাতির। যারা হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন বা যারা না ভোট, সবাই সমান। সবাই তুরস্কের গর্বিত নাগরিক।

এরদোয়ান সমর্থকরা বিজয়ের পর রাস্তায় নেমে উল্লাস করতে থাকে। ছবি/আনাদলু এজেন্সি

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান গণভোটে বিজয়ের পর জাস্টি এন্ড ডেভেলপ পার্টির (একে) সকল নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া আবেগঘন এক ভাষণে বলেন, এই বিজয় ঐতিহাসিক এবং শাসনতন্ত্র নিয়ে ২০০ বছরের বিতর্ককে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় এনে দিল। ‘তুর্কি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম জনগণ দ্বারা শাসনতন্ত্র পরিবর্তিত হলো’ বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

এ বিজয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ। কারণ এরদোয়ানকে তারা সাবেক উসমানীয় সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য ‘আগ্রাসী’ ও ‘উচ্চাভিলাষী’ নেতা মনে করে থাকেন। এ কারণে  জার্মানী, নেদারল্যান্ড ও ফ্রান্সে বসবাসরত তুর্কি নাগরিকদের সাথে গণভোটের আগে একে পার্টির প্রতিনিধিদের দেখা করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বিজয়ের পর ঐতিহাসিক ইস্তানবুল শহরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ থেকে এক জাতি, এক রাষ্ট্র ও এক পতাকা লক্ষ্য হিসেবে স্থাপিত হলো। তিনি বলেন, অন্যান্য রাষ্ট্র বিশেষ করে আমাদের মিত্রদের প্রতি বলছি, তুর্কি জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান করবেন।
২৫ মিলিয়ন হ্যাঁ ভোট গণনা করা হয়েছে জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, সব ধরনের সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা এবং সংকট কাটানোর শক্তি তুরস্কের রয়েছে।

প্রসঙ্গত গণভোটে এই বিজয়ের ফলে তুরস্ক সংসদীয় শাসনব্যবস্থা থেকে প্রথমবারের মত প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার ব্যবস্থায় যাবে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হবে। শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের উপর তুর্কি প্রেসিডেন্টের থাকবে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ত্ব। বিরোধীপক্ষের আশঙ্কা, এই অমিত শক্তি পেয়ে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ান তুর্কি তরুনদের মধ্যে ওসমানীয় সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের চিন্তা প্রবেশ করিয়ে দিতে পারেন। তুরস্কের নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুনীদের কাছে এরদোয়ানের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। গত বছর তার সরকারের বিরুদ্ধে পশ্চিমা মদদপুষ্ট একটি সেনা অভ্যুত্থান এরদোয়ানের মোবাইল ফোনে করা ভিডিওর আহবানে তুর্কি জনগণই রাস্তায় নেমে নস্যাৎ করে দেয়।

মন্তব্য করুন

উপরে