আপনি এখানে
প্রচ্ছদ > আলোড়ন > কবি ফিরোজের মাতাল আর্তনাদ হৃদয়ে আঁচড় কেটে যায়

কবি ফিরোজের মাতাল আর্তনাদ হৃদয়ে আঁচড় কেটে যায়

অার্তনাদ
বসন্ত অাসে চলে যায় দেখি,
দু’হাত বাড়িয়ে ডাকি রোজ,
কৈ অাসো না তুমি?
অনর্থক স্বপ্নগুলোর মিলন মালা দেখি,
পথ পাবো সহ্য করি তাই অবিচার।

কতো সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা,রাত্রি গড়িয়ে প্রভাত, দেখি গ্রীষ্মেরর ঠনঠনে পথ ফেটে চৌচির, ফাঁকে ব্যাঙচি,মাকড়ষা জাল বোনে।
একটু থমকে দাঁড়ায় , চোট পাবে বলে,
ফের পথ চলা থেমে থাকার নয়,
শেয়াল-শকুন-হায়ানা অাসে দেখি।
অাজ এক হাতে ভয়,অন্যহাতে অাশার প্রদীপ,
কৈ তবুও অাসো নি তুমি।

অামার বুকে হন্তারকদের জন্য অাজ,
সুস্থ রাজনৈতিক বিপ্লব চাই,
চাই জাগরণ গণমানুষের, কেউকেটোদের নয়,
স্বাধীনতা দিবসে, অসহায় অার্তনাদ মোর,
জেগে উঠুক ফররুখের পাঞ্জেরী পাল তুলুক,
১৬ কোটি মানুষের প্রার্থনা অাজ।

তুমি অাসবে

মাঝে মাঝে নিজেকে চিনতে কষ্ট হয়,
অস্তিত্বহীন একটা জড় বেশী,
পরে থাকা নর্দমারকিট যেমন,
ঠুকরে খায় অামার ভিতরের পশুটা,
অামি অাগলাতে ও পারিনা,
ছাড়তেও পারিনা মিশে থাকি,
ওর চাওয়াকে বড় করে দেখি,
শকুনের মতো অামাকে ঠুকরে খায়,
অামি পণ্য, তাই চেয়ে থাকি অপলক,
প্রতিবাদের ভাষা নেই,বোবা মন,
গুমরে কাঁদে নি:সঙ্গ একা,
পােশর মানুষগুলোকে অচেনা,
কতো দূরের দেখায় বুঝিনা কোথায়,
স্বর্গ নরক নর্দমা মনে সব বেঁচে থাকা,
জানি সব অর্থহীন সব তবুও,
বেঁচে থাকি প্রোয়জন ছাড়া দিনগুলো,
যায় হোক, ভালবাসি এই জীবন,
অর্থহীন স্বপ্ন বুকে করে থাকতে, হয়তো
তুমি অাসবে, না তুমি অাসবে,
ভেঙ্গে দিতে এই কষ্ট জিঞ্জির,
কিন্তু কবে কবে অাসবে সে দিন

মাতাল
মুখ যেন তোর অালোক রাশ্মি,
স্বচ্ছ কাঁচে সূর্যখানি হাসে,
মেঘ-অাধারি কেশগুলি তাই, কাঁশবনেরই পাশে!

সোনালী মাঠ চিড় সিঁথি খানা গেছে,
চাইলে পানে, প্রাণ উড়ে যায়,
কি করি তা ভেবে না পাই-
স্পন্দন গেলো থমকে!

ঠোঁট দুটি তোর রসে টুইটম্বর,
রক্তবরণ গোলাপ পাঁপড়ি নড়ে,
তাই তো অামি নেশায় মাতাল,
হৃদয় নিলি কেড়ে!

দুগ্ধধবল বদনখানি যেন,
সাফেদ বরণ প্রাণ প্রতীমা,
কলমিলতা বহু যুগলও- মিলেছে ভারী তাতে!

যাদুকারী তোর বক্ষ পানে,
ফাউজ, নেশায় মাতাল,জুলফি-টিলাদ্বয়ে,
করবো অাদর প্রাণ ভরে তাই
উম্মাদ হয়েছি অাজকে!

ক্ষমা করে দিস প্রাণো জ্যোতি মোর,
তুই ছাড়া যে, নিঃশ্ব অামি ওরে,
তবুও অামি বদ্ধউম্মাদ-
মাতাল তোর ঐ রুপে!

 

এসো তুমি

উদ্ভাসিত  মন, এসো তুমি,
রং ধনুর সাত রং মেখে,
অভিলাষকে পূর্ণতা দেয় অবনী,
দু’চোখে রঙ্গীন অালপনা অাবে,
পোষমানা ভোর,শান্ত দুপুর-গোধূলী,
উত্তাল তটিনীর স্রোত রইবে থমকে,
মর্ম-সুখে সুর তোলে পিক বুঝি,
বুকেতে তার কামনার ঢেউ বহে,
সারাটা রাত সুবাস ছড়ায় হাস্না-হেনা,
পুলকিত দিলে পাখপাখালি পথ চেয়ে,
সময়ে ঢেউ অপেক্ষায় প্রহর গোনে,
এসো প্রিয় নিশি,উলংঘনে সব,
হৃদয় অাঙ্গিনা জুড়ে।

অাঁচড় কেটে যায়

ইট-সুড়কির এই রাস্তার বুকে,
ঠিকানাবিহীন ছুটছি বহুদূর,
পাথর-হৃদয় মানুষগুলো অাব,
পদে পদে ঠকিয়ে যায়,
ফিরে চাওয়া সব স্মৃতির পাহাড়,
নিরবে যাতনা বাড়ায়,
সবুজ বুকের স্বপ্নগুলো অাজ,
অাঁধার মাঝে হারায়,
ভুলে থাকা সব দানব থাবা,
অাঁচড় কেটে কেন যায়?

কবি পরিচিতিঃ কবি ফিরোজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। জীবনে কঠিন সংগ্রাম করে তিনি জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুভূতিগুলো শব্দে ছন্দে প্রকাশ করেন। এস এফ হাসান নামে তিনি লিখে থাকেন। তবে বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে তিনি কবি ফিরোজ নামেই সমধিক পরিচিত।

One thought on “কবি ফিরোজের মাতাল আর্তনাদ হৃদয়ে আঁচড় কেটে যায়

মন্তব্য করুন

উপরে